Showing posts with label হিপোক্রেসী. Show all posts
Showing posts with label হিপোক্রেসী. Show all posts

Sunday, October 28, 2012

কিছু মধ্যবিত্তের মানসিক দৈন্যতা এবং হিপোক্রেসী... প্রসঙ্গঃ বিয়ে....

কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করছি ব্লগে বিয়ে নিয়ে অপচয়ের কথাটি উঠে আসছে। পয়সা ওলা কিংবা ধনীরা বিয়েতে অতি খরচ করছে যা অমানবিক। বাংলাদেশের বেশিরভাগ ধনীরাই বাঁকা পথে পয়সা করেছে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। তবে আলোচনা সেটা না।


আলোচনা “বিয়েতে এত বেশি খরচ করা কি অমানবিক, যেখানে দেশের অনেক মানুষ দিনে দু মুঠো খেতে পারেনা”।

আমার দৃষ্টিতে এবং আমি নিজে যদি অনেক ধনী হই করবোনা।

এখন, এর সমালোচনা করার নৈতিক অধিকার কি মধ্যবিত্তের আছে?
নেই
কেন নেই?
প্রথমত এটা হিপোক্রেসির চরম পর্যায়।

কেন হিপক্রেসি
• আপনি ধানসিঁড়ি কিংবা চিলিসে খেয়ে বলতে পারেননা বীথিকা কিংবা সাবলাইমে খাওয়া অপচয়।
• আপনি গার্লফ্রেন্ডের জন্য ২০০০ টাকায় পারফিউম কিনে বলতে পারেননা ৩০০০০ টাকার পারফিউম কেনা অপচয়।
• বৌয়ের জন্য ১০ হাজার টাকায় শাড়ী কিনে বলতে পারেননা ১০০০০০ টাকায় শাড়ী কেনা অপচয়।
• ৫০০ টাকার জিলেট আফটারশেভ ব্যবহার করে বলতে পারেননা ৬০০০ টাকার শেনেল আফটারসেভ ব্যবহার করা অপচয়।
• ক্যাটস আই কিংবা এক্সটাসিতে গিয়ে ৫০০ টাকার সার্ট ২৫০০ হাযার টাকায় কিনে বলতে পারেননা ২৫০০০ হাজার টাকার আর্মানী শার্ট কেনা অপচয়।
• ২০০০-৩০০০ টাকায় জিনস কিনে কইতে পারেননা ৫০০০০ টাকায় জিনস কেনা অপচয়।
• ৫০০০-১০০০০ টাকায় কোট-ব্লেজার সিলায়া বলতে পারেননা ৫০০০০০ টাকায় ব্রিওনি কোট ব্লেজার কেনা অপচয়
• ২০০০-৫০০০ টাকার জুতা কিনে কইতে পারেননা ৪০০০০ টাকায় জুতা কেনা অপচয়।
• সিটি কর্পোরেশনের কমিউনিটি সেন্টারে বিয়া কইরা কইতে পারেননা গলফ ক্লাব কিংবা রেডিশন হোটেলে বিয়া করা অপচয়।
• কক্সবাজারে গিয়া ৫০০০ টাকা উড়াইয়া (মদ, নাইট ক্লাব) আইসা কইতে পারেননা হাওয়াইতে যাইয়া এক সপ্তাহে ২৫০০০০০ টাকা খরচ করা অপচয়।
• বিয়েতে নিজে সাউন্ড সিস্টেম/ডিজে ভাড়া কইরা আপনি কইতে পারেননা বিদেশ হতে শিল্পী ভাড়া করা অপচয়।
• বিয়ের জন্য দামী গাড়ী এবং বাস ভাড়া করে বলতে পারেননা হেলিকপ্টার ভাড়া করা অপরাধ।

কারণ

• অনেক কম রেটে খাওন যায় ঢাকায়।
• অনেক কম মূল্য দেশীয় পারফিউম পাওয়া যায়।
• ১০০০০ টাকায় শাড়ী কেনার মত বিলাসিতা অনেকে দেখাতে পারেনা।
• আমাদের দেশের অনেক কোম্পানি আফটার শেভ প্রস্তুত করে।
• ৫০০-১০০০ টাকায় আসলেই খুবই ভালো মানের সার্ট পাওয়া যায়, ব্রান্ড লেভেল ছাড়া।
• অনেক কম টাকায় ভালই জিনস পাওয়া যায়।
• বেশিরভাগ মানুষেরই নতুন কোট ব্লেজার কেনার সামর্থ্য নাই।
• ১-১৫০০ টাকায় যথেষ্ট ভালো জুতা পাওয়া যায় তবে নন ব্র্যান্ড।
• দেশের অনেক মানুষের এখনো কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ে করার সামর্থ্য নেই।
• দেশের বেশিরভাগ মানুষের কাছেই আরাম ভ্রমণ অপচয় যেখানে তাঁরা ঠিকমত মৌলিক চাহিদা মেটাতে পারেনা।
• ওই নাচ গান আসলেই বাহুল্য।
• অনেকে বিয়েতে একেবারে সামান্য প্রয়োজনীয় গাড়ীও ভাড়া করতে পারেনা।

অর্থাৎ সবাই যার যার মত বিয়েতে খরচ করে। সুতরাং কে কিসে কত খরচ করল এটা যার যার নিজের ব্যাপার।এসব নিয়ে মন্তব্য করা নির্লজ্জতা এবং বেহায়াপনা।

শুধু দুটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে
১. এইসব আয়োজন করার সময় সরকার নির্ধারিত কর প্রদান করা হচ্ছে-কিনা।
২.দুর্নীতি বিষয়ক তদন্ত করা যেতে পারে, যেমন আয়ের উৎস
কিন্তু কোনমতেই খরচ করা ভালো না খারাপ ওটা নিয়ে বলা যাবেনা। তা তাদের একান্ত নিজস্ব ব্যাপার।

পুনশ্চঃ অনেক ভাবুক মক্কেল বড় বড় কথা কয়। দেশ ও জাতি নিয়া কিন্তু নিজে ৮ টাকার সিগারেট টাইনা দিনে ২০০ টাকার বেশি অপচয় করে।

----------------------------------------XXXXX------------------------------------------------

 প্রবন্ধটি ০২ রা জুলাই, ২০১২ সালে সমহোয়্যার ইন ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।

বিশ্ব মানবআধিকারের স্বঘোষিত ধ্বজাধারী দুই আঁতেল নরওয়ে এবং সুইডেনের ভণ্ডামি




বিশ্ব মানবাধিকারের ধ্বজাধারী দুটো দেশ নরওয়ে এবং সুইডেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলোতে পান থেকে চুন খসলেই ওই দেশের সরকার গেল গেল রব তুলে। আমাদের বাংলাদেশকেও তারা বিভিন্ন ভাবে চাপে রাখে। অন্যান্য অনেক দেশের হিপোক্রেসী এখন ওপেন সিক্রেট। তবে এই দুই “বিশ্ব মানবতার আঁতেল” ঘরানার দুটি দেশের হিপোক্রেসী সম্পর্কে অনেকে বোধয় অবগত নন। তাই কিছু শেয়ার করছি -

সামি – স্ক্যান্ডিনেভিয়ার সত্যিকারের আদিবাসী





বর্তমান নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ডের ল্যাপল্যান্ড এবং রাশিয়ার মারমানস্ক অঞ্চলের আদিম বাসিন্দা হল “সামি” জনগোষ্ঠী। তারা খৃস্টপূর্ব ৫০০০ বছরেরও আগে হতে উক্ত অঞ্চলে বসবাস করছে। যুক্তিসঙ্গত কারণে এখানে রাশিয়া এবং ফিনল্যান্ডের আলোচনা করা হবেনা কেননা তা আলোচ্য নয়।

নরওয়েজীয়ান এবং সুইডিশরা বর্তমান ১০ শতাব্দীর মধ্যভাগে এই অঞ্চলে পূর্ব ইউরোপ থেকে আগমন করে। প্রথমদিকে নতুন এই অভিভাষণকারী জনগোষ্ঠীর সাথে সামিদের তেমন সমস্যা হয়নি কারণ তাদের বেশিরভাগ দক্ষিণাচলে থাকত। ১৬ শ শতাব্দীর পর হতে সামি অঞ্চলে নরওয়েজীয়ান এবং সুইডিশ বহিরাগতদের প্রবেশ শুরু হতে থাকে। উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগ হতে সামি জনগোষ্ঠীর উপর বৈষম্য প্রকট হতে থাকে ফলশ্রুতিতে ১৮৫২ সালে নরওয়েতে “কাটোকইনো” বিদ্রোহ দেখা দেয় এবং নরওয়ে সরকার শক্ত-হাতে তা দমন করে। বিংশ শতাব্দীর ২০ এবং ৩০ এর দশকে নরওয়ে এবং সুইডেন সরকার কতগুলো আইন তৈরি করে সামি জনগোষ্ঠীকে একেবারে কোণঠাসা করে দেয়।
সামি জনগোষ্ঠীর উপর বিভিন্ন বৈষম্যের প্রধানতম দিকগুলোঃ

১। তাদের নিজেদের ভূমির অধিকার কেরে নেওয়া। বিভিন্ন কারণে ভূমি হতে উচ্ছেদ, স্থানান্তরকরণ ইত্যাদি।

২।বৈজ্ঞানিক উপায়ে জাতিসত্তা আস্তে আস্তে বিলুপ্ত করে দেওয়া। নরওয়েতে সামিদের নিজ ভাষা শিক্ষার উপর নিষেধ আরোপ করা হয় এবং সমগ্র সামি জনগোষ্ঠীকে আস্তে আস্তে সাংস্কৃতিক ভাবে নরওয়েজীয়ান করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সুইডেনের অবস্থা আরও খারাপ ছিল। তারা অনেক সামির উপর বায়োলজিক্যাল পরীক্ষা চালাত এবং অনেক সামি মহিলাকে সন্তান ধারণে অক্ষম করে ফেলা হয়।

৩। জোড় করে খনিতে কাজ করতে বাধ্য করা সুইডেনে খনি আবিষ্কৃত হবার পর সামি জনগোষ্ঠীদের তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবিকা থেকে জোড় করে এনে খনিতে কাজ করতে বাধ্য করা হয়।

১৯৭০ সালের পর থেকে আন্তর্জাতিক এবং আভ্যন্তরীণ নানা চাপে নরওয়ের এবং সুইডেনের সরকার সামি জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন অধিকার দিতে বাধ্য হয়েছে বেশিরভাগ বাস্তব রূপ দেখেছে ১৯৯০ সালের পর থেকে। নরওয়ের রাজা কৃত দোষ স্বীকার করে সামিদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।


শিশুদের সাথে অমানবিকতা



হিটলারের জাতি মিশ্রণ এবং আর্য রক্তের বংশ তৈরিকরণ প্রকল্প সম্পর্কে সবাই কমবেশি অবগত। ইতিহাসের এক জঘন্যতম অধ্যায় যা “লিবেন্সবর্ন” প্রকল্প নামে কুখ্যাত। উন্নত আর্য বংশ জন্মদানের উদ্দেশ্য অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মহিলাদের আর্য ঔরসজাত (বিশেষত জার্মান) সন্তান ধারণে উৎসাহ কিংবা বাধ্য করা হত।

নাৎসি জার্মান অধিকৃত নরওয়েতেও তেমন একটি প্রকল্প ছিল। যাই হোক জার্মান পরাজয়ের পর নরওয়ের সরকার উক্ত শিশুদের সাথে যে আচরণ করল তা কালের ইতিহাসে যেকোনো ঘৃণ্য কাজকেও হার মানাবে যা মানবতা-বিরোধী বিভিন্ন নাৎসি প্রকল্প থেকেও কম না।

সবচাইতে বড় কথা ওই শিশুদের তো কোন দোষ ছিলনা কিন্তু নরওয়ের তৎকালীন সরকার তা বুঝতে পারেনি। সময় ১৯৪৫ পর সকল যুদ্ধ শিশুদের তাদের মায়ের কোল হতে কেড়ে নেওয়া হয়। বেশিরভাগ শিশুই ধর্ষণ এবং ভয়াবহ অত্যাচারের শিকার হয় এবং তাদের সমস্ত মৌলিক অধিকার হতে বঞ্চিত করা হয়। এই রকম যুদ্ধ শিশু ইউরোপের অন্যান্য দেশের নাৎসি অধিকৃত অঞ্চলেও ছিল কিন্তু ওখানে নরওয়ের মত করা হয়নি।
নরওয়ের সেই যুদ্ধ শিশুরা যারা এখন অনেকই বৃদ্ধ তারা তাদের অধিকার এবং ক্ষতিপূরণের জন্য এখনো আন্দোলন করছেন।


যারা আরো বিস্তারিত জানতে আগ্রহী তারা গুগল এবং উইকিপিডিয়াতে নিম্নোক্ত শব্দ দিয়ে সার্চ করতে পারেনঃ

১।Sami people, history, discrimination, Norway, Sweden

২।Lebensborn, war children, discrimination, Norway, Nazi eugenics

----------------------------------------XXXXX------------------------------------------------

 প্রবন্ধটি ১৭ই মে, ২০১২ সালে সমহোয়্যার ইন ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।

কতিপয় নারী - পুরুষদের প্রতি কিছু জিজ্ঞাসা.........



কতিপয় পুরুষদের প্রতি কিছু জিজ্ঞাসা

আপনি সমাজ সচেতন পুরুষ। আপনি মনে করেন নারীদের শালীন পোশাক পরা উচিত, তার আগে আপনি দেখেন আপনি কি টাইট জিন্সের প্যান্ট পরেন কিংবা শার্ট পরে উপরের কয়েকটি বোতাম খোলা রাখেন???? আপনি কি হাফপ্যান্ট পরেন ???

আপনি ধর্মীয় মনোভাবপূর্ন, আপনি মনে করেন মেয়েদের হিজাব পরা উচিত, তাকে বলার আগে আপনি নিজেকে দেখেন, আপনি কি এমন পোশাক পরিধান করেছেন যে আপনার অঙ্গগুলো বোঝা যাচ্ছেনা। আপনি মনে করেন মেয়েদের পশ্চিমা পোশাক বর্জন করা উচিত; আচ্ছা আপনি কি শার্ট-প্যান্ট, কোট-টাই পরেন।

আপনি মনে করেন মেয়েদের বোরকা পরিধান করা উচিত, মনে করেন এটাই ধর্মের নিয়ম। আপনার এমন বলার অধিকার তখনি আছে যখন আপনি নিজে টাকনুর উপর পায়জামা পরা শুরু করবেন এবং জোব্বা পরবেন, দাড়ি রাখবেন এবং পাগড়ী পরবেন।

আশা করা যায় কাউকে উপদেশ দেওয়ার আগে আপনি নিজে ঠিক হবেন এর পর আপনি অপরকে বলেন।

কতিপয় নারীদের প্রতি কিছু জিজ্ঞাসা

আপনি আধুনিক নারী, আপনি নারী পুরুষের সমান অধিকারে বিশ্বাসী। নারী পুরুষের সমান উত্তরাধিকারেও বিশ্বাসী। আপনি মনে করেন এটা অন্যায় যে নারী পিতার থেকে একজন পুরুষের অর্ধেক সম্পদ পাবে। আপনি চিন্তা করেন, আপনি কি মনে করেন স্বামীরও স্ত্রীর সম্পদে অধিকার আছে যেমন স্ত্রীর স্বামীর সম্পদের উপর অধিকার আছে। আপনি কি এমনও মনে করেন আপনার স্বামী আপনার ভরণপোষণে বাধ্যতামূলক নয় যেমন আপনি আপনার স্বামীর ভরণপোষণে বাধ্যতামূলক নন।

আপনি আধুনিক, আপনি কি মনে করেন বিয়ের সময়ের দেনমোহর ব্যবস্থা অপমানজনক এবং আপনি আপনার বিয়ের সময় স্বামী হতে কোন দেনমোহর নেবেননা। কিংবা মতের আমিলের জন্য আপনার স্বামীর সাথে তালাক হলে আপনি কোন ভরণপোষণ দাবী করবেননা কিংবা আপনি যদি তালাক দেন স্বামীর মত আপনিও তাকে ক্ষতিপূরণ/ ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। কোন পুরুষ যদি আপনাকে কোন কাজে নারী হিসেবে বিশেষ সৌজন্যতা না দেখায় নারী হিসেবে আপনার কি খারাপ লাগে, যেমন আপনাকে সিট ছেড়ে না দেওয়া কিংবা দরজা খুলে না দেওয়া। আশা করি আপনার খারাপ লাগেনা।

আশা করা যায়আপনি উপরোক্ত ব্যাপার গুলোতে চিন্তা করেননা কিংবা মনে করেননা।