Friday, December 21, 2012

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সংস্কৃতি


পেছনের ইতিহাস
পশ্চিম গোলার্ধে ইউরোপীয় ঔপনেবিশক আমলের শুরুর সময় উত্তর আমেরিকা অঞ্চল মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকা হতে ভিন্ন ছিল; এখানে সেই অর্থে কোন প্রি-কলম্বাইন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেনি। তৎকালীন সময়ে এখানে যারা বসতি স্থাপন করত তাদের সাধারণত নিজেদের নিরাপত্তা নিজেদের বিধান করতে হত নিজেদের তৈরি বসতিতে। সবার সাথেই অস্ত্র থাকত। আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে সাধারণ মানুষ তাদের এই ব্যক্তিগত অস্ত্রের মাধ্যমে মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করে যারা নিয়মিত মহাদেশীয় বাহিনীর সাথে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তথা ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধ করে। যুদ্ধের পর পর পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত এসব মিলিশিয়াদের নিরস্ত্র করা হয়নি কারণ যুক্তরাষ্ট্র পুরো-দমে কার্যকরী হবার সাথে সাথে আরেক ইতিহাস রচিত হতে থাকে-
সময়টা ১৮দশ শতাব্দী, আমেরিকায় তখন মেনিফেস্ট ডেস্টিনি তত্ত্বের জয় জয়কার। জনগণ ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য পশ্চিমে ছুটছে ফ্রান্স হতে ক্রয় করা উত্তর পশ্চিমের বিশাল লুইজিয়ানা অঞ্চল এবং এর কিছু পরে সুবিশাল মেক্সিকো হতে জবর দখল করা আমেরিকার গোটা মধ্য এবং দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল। এ যেন এক নতুন “নতুন পৃথিবী” যেখানে বসতি স্থাপন করতে জাহাজ নিয়ে কোন হাজার মাইলের নৌপথ পারি দিতে হয়না; পারি দিতে হয় ঘোড়া এবং কারাভানের বহরে বিপদ সকুল সড়ক পথ। নৌ পথের মত এখানে প্রধান বিপদ প্রকৃতি কিংবা জলদস্যুর মত অপরাধীরা নয়। স্থানীয় ভূমিপুত্ররা যারা সত্যিকার অর্থেই এই অঞ্চলের আদিবাসী কিংবা অ্যাবোরিজিনাল তাদের যৌক্তিক প্রতিরোধের স্বীকার হতে হত ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারীদের দের। নতুন অধিবাসীরা সেখানে ছোট ছোট টাউন গড়ে তুলেন এবং এর আশে পাশে কৃষি এবং গবাদি পশুর খামার গড়ে তুলেন। অনেকেই আসেন মাটির নিচের সম্পদের খোঁজে। তৎকালে যুক্তরাষ্ট্র মোটেও বর্তমান কালের মত পরাশক্তি ছিলনা; সবচাইতে বড় কথা তৎকালীন বিশ্বের ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলো নতুন বিশ্ব থেকে নিজেদের দৃষ্টি ফিরিয়ে আফ্রিকা এবং এশিয়াতে তাৎক্ষণিক লাভের দিকে মনোযোগ দেয়।
উনবিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার কিংবা বিভিন্ন অঙ্গরাষ্ট্রের সরকারের পক্ষে সম্ভব ছিলনা মহাদেশ-সম রাষ্ট্রে সবার জন্য নিরাপত্তা বিধান করা। বিভিন্ন অঞ্চলে নাগরিকেরা তাদের নিজেদের নিরাপত্তা বিধান নিজেরাই করত, যেমন করত স্বাধীনতার আগে ব্রিটিশ আমলে। স্থানীয় আদিবাসীদের সাথে বড় ধরনের সমস্যা হলে মাঝে মাঝে কেন্দ্র হতে সৈন্য পাঠানো হত । কিন্তু বিভিন্ন ধরনের অপরাধী এবং ডাকাতদের স্থানীয় জনগণই সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে মোকাবেলা করত। এজন্য তাদের প্রতি ঘরেই অস্ত্র থাকত এবং তা সামাজিক ভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ দমন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পুলিশ বিভাগের গঠনের উপর, স্থানীয়ভাবে অপরাধ দমনের প্রবণতা এবং অস্ত্র সংস্কৃতির ধারণা পাওয়া যায়। বিশ্বের সবচাইতে বেশি স্বাধীন পুলিশ বিভাগ আছে যুক্তরাষ্ট্রে, ৪০০০ এরও বেশি; প্রতিটি এলাকা যেমন স্টেট, সিটি,কাউন্টি কিংবা টাউন এমনকি পার্কের জন্যও আলাদা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। যার সবচাইতে ছোটটির সদস্য ৫০ জন থেকেও কম থেকে বৃহত্তম গুলোর সদস্য প্রায় ৩৪০০০ এরও অধিক। প্রধান প্রধান কেন্দ্রীয় পুলিশ কিংবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যেমন এফবিআই, ডিইএ, এটিএফ একেবারে নতুন সৃষ্টি, বিংশ শতাব্দীতে এদের যাত্রা শুরু। অন্যান্য দেশের মত যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় ভাবে কোন ইউনিফর্মড পুলিশ সার্ভিস নেই। তাছাড়া ঐতিহ্যবাহী “শেরিফ বিভাগ” বিভিন্ন জেলা আকৃতির কাউন্টিতে স্থানীয় পুলিশ বিভাগের সাথে কাজ করে; লোকাল শেরিফ সাধারণত কোন এলাকার প্রধান আইন প্রয়োগকারী ব্যক্তি যিনি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। শেরিফের আরেকটি দায়িত্ব হল তিনি স্থানীয় মিলিশিয়া প্রধান। ঐতিহ্যগত ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মিলিশিয়া বলতে বোঝায় অস্ত্রধারী নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক দল যারা প্রয়োজনের সময় নিয়মিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে কাজ তথা যুদ্ধ করবে কিংবা এলাকার নিরাপত্তা বিধান করবে।
পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলে ব্যাক্তিগত অস্ত্রের ব্যবহার
পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই লাইসেন্সকৃত অস্ত্র রাখা যায়। এমনকি বাংলাদেশেও রাখা যায়। অনেকেই রাখেন, কারও আসলেই আত্মরক্ষার প্রয়োজনে রাখতে হয়, কেউ কেউ রাখেন নিতান্ত শখে; এটা একটি স্ট্যাটাস সিম্বল কিংবা আত্ম প্রশান্তি। তবে এসবের কোনটিও স্বয়ংক্রিয় কিংবা আধা স্বয়ংক্রিয় নয়। এধরনের অস্ত্র রাখা রীতিমত ফৌজদারি অপরাধ। যুক্তরাষ্ট্রে কিছুকাল আগে পর্যন্তও পূর্ন স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র সিভিলিয়ায়নারা রাখতে পারত। এখন তারা আধা স্বয়ংক্রিয় রাখতে পারেন।
ব্যাক্তি ব্যবহার্য অস্ত্র
ব্যাক্তিগত হালকা অস্ত্র (সামরিক স্ট্যান্ডার্ডে) সম্পর্কে সামান্য ধারণা পেলে এসব ব্যাপারে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে। ব্যক্তিগত অস্ত্রকে মোটা দাগে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়
১।রাইফেল এবং কার্বাইন
২।পিস্তল তথা হ্যান্ডগান এবং রিভলবার
৩।লংগান এবং শট গান
এই তিন শ্রেণীর মধ্য উপরুক্ত দুই শ্রেণীর (১ এবং ২ নং) অস্ত্র থেকে গুলি সাধারণত দুই ভাবে ছোড়া যায় – স্বয়ংক্রিয় (এক ট্রিগার চাপে এক নাগাড়ে পুরো ম্যাগাজিন কিংবা ২-৩ রাউন্ডের বার্স্ট) এবং আধা স্বয়ংক্রিয় ( এক ট্রিগার চাপে এক রাউন্ড তবে অটোমেটিক লোড)
শেষোক্ত (৩ নং), অর্থাৎ লংগান কিংবা শটগান হতে গুলি ছোড়ার পর সাধারণত আবার লোড দিতে হয়। তবে আধুনিক কিছু শটগান আধা স্বয়ংক্রিয় ডিজাইনেরও আছে। আমাদের দেশে লংগান এবং শটগান, বন্দুক হিসেবে পরিচিত।
মোটা দাগে, এসব অস্ত্রের কার্টিজকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় রাইফেল এবং হ্যান্ডগান কার্টিজ; বুলেট এই কার্টিজের ভেতরে থাকে। তাছাড়া শট গানের কার্টিজ শেল হিসেবে পরিচিত এবং লংগানে বল ব্যবহৃত হয়। অস্ত্রের নলের আভ্যন্তরীণ তথা ব্যারেলের ভেতরের আনুমানিক ব্যাস ক্যালিবার হিসেবে পরিচিত। ব্যারেল এবং কার্টিজের ব্যাস ইঞ্চি কিংবা মিলিমিটারে হিসেব করা হয়। সিভিলিয়ান সাইজের বুলেট এবং কার্টিজ বহনের আইন একেক জায়গায় একেক রকম। প্রয়োজন অনুসারে এসবের ডিজাইনের ভিন্নতা থাকে।
যেসব দেশে সিভিলিয়ানদের ব্যক্তিগত অস্ত্র রাখার অনুমতি আছে সেখানে সাধারণত লংগান, শট গান এবং সল্প ক্যালিবারের আধা স্বয়ংক্রিয় পিস্তল এবং রিভলভার রাখার অনুমতি দেওয়া হয় এবং তাও কঠোর নিয়ন্ত্রিত অবস্থায়। পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই রাইফেল-কার্বাইন জাতীয় অস্ত্র (স্বয়ংক্রিয় কিংবা আধা স্বয়ংক্রিয়) নিষিদ্ধ।
পোস্টে অস্ত্রের তথ্য সরলীকরণ করা হয়েছে। যারা আরেকটু বিস্তারিত এবং ট্যাকনিক্যালি অস্ত্র সম্পর্কে জানতে আগ্রহী তারা এই “ওয়ার্ল্ড গানস” সাইটে যেতে পারেন।
আমেরিকায় বিতর্ক এই রাইফেল, কার্বাইন এবং স্বয়ংক্রিয় হ্যান্ড-গান নিয়েই।
বিশ্বের বিভিন্ন সেনাবাহিনী এমনকি বিশেষ বাহিনীর ব্যবহার্য রাইফেল, কার্বাইন (যেমন M16, M82, G3, G36, HK416, AK47, AK101 কিংবা FT2000) কিংবা পিস্তলের (যেমন M9) এর সমমানের তথাকথিত সিভিলিয়ান আধা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র আমেরিকায় খোলা বাজারে কিনতে পাওয়া যায় যা অনেক ক্ষেত্রেই অনেক দেশের সেনাবাহিনী কর্তৃক ব্যবহার্য অস্ত্র থেকেও অনেক আধুনিক।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ব্যবহার করে মূলত Type 56 কিংবা 84 ভার্সনের স্বয়ংক্রিয় রাইফেল যা মূলত AK 47 এর উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত, অতি অল্প কিছু ইউনিটের G3 সমমানের রাইফেল আছে।
এখানে বহুল প্রচলিত ভার্সনের নাম উল্লেখ করা হল, এসবের সিভিলিয়ান সংস্করণের সাংকেতিক সিরিয়াল ভিন্ন এমনকি নামও অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন। যেমন HK416 এর সিভিলিয়ান ভার্সনের যুক্তরাষ্ট্র সংস্করণের নাম MR556।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারী তদারকি সংস্থা
লাইসেন্স-কৃত কিংবা অবৈধ অস্ত্র-কেনা বেচা এবং এই ব্যবসার সরকারি তদারকি প্রতিষ্ঠান ATF (Bureau of Alcohol, Tobacco, Firearms and Explosives) যা স্থানীয় পুলিশের সাথে সাথে অন্যান্য কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী FBI কিংবা DEA এর সঙ্গে জাস্টিস বিভাগের অধীন কাজ করে।
অস্ত্রের উপর ব্যাক্তিগত মালিকানা অধিকারের আন্দোলনকারী
অস্ত্র বহন অধিকারের প্রধান মুখপাত্র সংগঠন “ন্যাশনাল রাইফেল এ্যাসোসিয়েশন (NRA)” যারা নিজেদের সিভিল লিবার্টি সংঘটন হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসে। এর সদস্য ৪০ লাখেরও বেশি এবং সঙ্গে পরিবারের অনন্য সদস্য এবং অ-নিবন্ধিত মানুষদের ধরলে, কোটির উপর মানুষ এই অস্ত্র রাখার পক্ষপাতী । এই সংঘটনের বার্ষিক আয় এবং সংগ্রহীত চাঁদার মোট পরিমাণ ২০ কোটি ডলারেরও বেশি। ওয়াশিংটনে এদের লবি সবচাইতে প্রভাবশালী গুলোর মধ্য একটি।
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাক্তিগত ভাবে অস্ত্র রাখাটাকে নাগরিক অধিকার মনে করা হয় । যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মূল মানবাধিকার সনদে এর উল্লেখ আছে-
Amendment II
A well regulated Militia, being necessary to the security of a free State, the right of the people to keep and bear Arms, shall not be infringed.
এই আর্টিকেলটি অষ্টদশ শতাব্দীতে করা যা বর্তমানে সমরাস্ত্র অধিকারের পক্ষপাতীদের প্রধান অস্ত্র। তবে কালের পরিক্রমায় বর্তমানে নিজের কাছে বিপজ্জনক মারনাস্ত্র রাখার যুক্তি নেই কারণ-
১।সমগ্র আমেরিকা ব্যাপী পুলিশ, কেন্দ্রীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী এবং অপরাধ দমনকারী সংস্থার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। যারা অত্যন্ত সফলতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
২। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একটি পুরো পেশাদার বাহিনী। জরুরী অবস্থায় মিলিশিয়া বাহিনীর কিংবা গণবাহিনীর অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ এবং শান্তিকালীন সময়ে নিয়মিত প্ররশিক্ষনের ব্যবস্থা তারা করতে পারে; নিয়মিত তা করাও হয়।
কালে কালে ব্যক্তিগত অস্ত্রের মাধ্যমে অপরাধ বাড়তে থাকলে, ক্রমেই আইন করে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়। তবে বিরোধীদের কারণে কোন সময়ই পুরোপুরি সফল হয়নি
১। জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র আইন ১৯৩৪
২।সামগ্রিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ সড়ক আইন ১৯৬৮
৩।আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৬৮
৪।আগ্নেয়াস্ত্র মালিকদের নিরাপত্তা আইন ১৯৮৬
৫।ব্র্যাডি হ্যান্ডগাম সহিংসতা প্রতিরোধ আইনের ১৯৯৩

এছাড়া আরও দুটি আইন করা হয়েছিল যা বর্তমানে বাতিল হয়েছে কিংবা অকার্জকর হয়ে গিয়েছে-
১।অস্ত্র-মুক্ত বিদ্যালয় এলাকা আইন ১৯৯০
২।কেন্দ্রীয় আক্রমণাত্মক অস্ত্র নিষিদ্ধ ১৯৯৪-২০০৪
লক্ষণীয়, উপরোক্ত আইন গুলোর প্রধান লক্ষ মোটেও অস্ত্র নিষিদ্ধ করা ছিলনা। এসব মূলত অস্ত্র কেনা বেচা কিংবা হস্তান্তর অথবা কি কি কারণে অস্ত্র বহন কেনা যাবেনা সেসবের আইন। খুব অল্পকাল আগেও ভারি মেশিনগান এবং পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ব্যক্তিগত ভাবে রাখা যেত; কাগজে কলমে এখনো রাখা যায় যেগুলো ১৯৮৪ সালের আগে প্রস্তুত। স্বয়ংক্রিয় অ্যাসল্ট রাইফেল রাখা যেত ১৯৯৪ সালে আগ পর্যন্ত, মজার ব্যাপার হল এটাও যদি শুধু এই বছরের পর তৈরি অস্ত্রের ক্ষেত্রে। এখন শুধু সেমি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল রাখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের খতিয়ান এবং সমসাময়িক অবস্থা
প্রতি ১০০ জনে ৮৯ টি অস্ত্র আছে তথা আমেরিকার নাগরিকদের কাছে প্রায় ২৭ কোটি অস্ত্র আছে। সিভিলিয়ান অস্ত্র ব্যবসা বিলিয়ন-ডলার ব্যবসা। প্রতিবছর বিভিন্ন গান ভায়োলেন্সে ৯০০০ এর ও বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। এ সংখ্যা শান্তিকালীন সময়ে যেকোনো দেশ থেকে বহুগুন বেশি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আগ্নেয়াস্ত্র অপরাধ এর একটি চিত্র এই তিনটি সাইট – “গার্ডিয়ান” , ওয়াশিংটন পোস্ট এবং গান সাইট থেকে পাওয়া যাবে।
অতি সাম্প্রতিক কালে কানেটিকাটে ঘটে-যাওয়া একেবারে হত্যাযজ্ঞের হত্যাকারী নিজেই তিনটি অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে আসে, একটি সেমি অটোম্যাটিক Bushman M4 কার্বাইন যা মূলত M16 এর সিভিলিয়ান ভার্শন AR15 উপর ভিত্তি করে তৈরি এবং দুটি 9MM পিস্তল (গ্লক এবং সোওর) যা সাধারণত সামরিক বাহিনীতে ব্যবহার করা হয়। এবং এই তিনটি অস্ত্ররই বৈধ লাইসেন্স আছে।
তাছাড়া, এই সমসাময়িককালে সংঘটিত ভার্জিনিয়া , নেভাদা ,উইস্কন্সিন , অরিগন , অ্যারিজোনা , ফ্লোরিডা , কলোরাডো , কলোরাডোতে তে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞেও প্রায় একই রকম অস্ত্র ব্যবহৃত হয়। বিপজ্জনক মারণাস্ত্রের সহজ লভ্যতাই এর মূল কারণ।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের একটি বড় অংশ মনে করে, প্রতিবছর যে বন্দুকের সহজ লভ্যতার কারণে মানুষের মৃত্যু হচ্ছেনা। তাদের কাছে ব্যক্তিগত অস্ত্র একটি সম্মানের কারণ। এটা বহু মানুষের অবসর কাটানোর সঙ্গী। তারা শিকার করে এবং বিভিন্ন খেলাধুলায় অশ নেয় অস্ত্র নিয়ে। বেশিরভাগ মানুষই ব্যাক্তিগত অস্ত্রই আত্মরক্ষার মূল মাধ্যম হিসেবে দেখে। আসলে এটা বংশ পরম্পরায় চলে এসেছে। এক সময় এমন অস্ত্র রাখা তাদের প্রয়োজন হলেও এখন এটা মানুষের পারিবারিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক স্ট্যাটাস ও বটে।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এখনই যদি এসব রাইফেল – কার্বাইন নিষেধ করতে হয় তাহলে প্রেসিডেন্টকে আক্ষরিক অর্থেই প্রশাসনিক ডিক্রী জারি করতে হবে কারণ নিকট ভবিষ্যতে মার্কিন পার্লামেন্ট, কংগ্রেসে এসব অস্ত্র নিষিদ্ধ হয়ে আইন পাস হবার আপাত কোন সম্ভাবনাই নেই।
বিপজ্জনক আগ্নেয়াস্ত্রের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে-তোলা এখন সময়ের দাবী। সবার বোঝা উচিৎ, এখন আর সেই অষ্টদশ-উনবিংশ শতাব্দী নেই, একবিংশ শতাব্দী। কালের প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তনযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে বহু পরিবর্তন এবং পরিমার্জন হয়েছে এবং তা যুগোপযুগি করা হয়েছে। এই আর্টিকেল (দ্বিতীয় অ্যামেন্ডমেন্ট) টা আক্ষরিক অর্থেই যুগোপযুগি নয়। এটা বাদ দেওয়ার সাথে সাথে যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র আইন আরও কঠোর করা উচিৎ। নাহলে ভবিষ্যতেও এমন সধারন মানুষদের নিজের জীবন দিয়ে এর মূল্য দিতে হবে।
বিস্তারিতঃ
# U.S. gun violence compares with the rest of the world:washingtonpost
# International Homicide Comparisons
# America’s deadly devotion to guns:guardian
# Timeline: US gun massacres:guardian
# Gun Violence in America
# Milestones in Federal: Gun Control Legislation
# Gun crime statistics by US state: latest data
# Gun Violence in America:The Suit
# How Prevalent is Gun Violence in America?
# Global Impact of Gun Violence
# UNODC Homicide Statistics 2012
# Murders with firearms (most recent) by country
# Modern Firearms
# Bureau of Alcohol, Tobacco, Firearms and Explosives (ATF)
# National Rifle Association of America (NRA)
———————x———————

 প্রবন্ধটি ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১২ সালে মুক্ত-মনা ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল

Wednesday, December 05, 2012

মুক্তচিন্তা কিংবা মুক্তমনের সীমাবদ্ধতা



সবকিছুতেই ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক দিক আছে। মানব সমাজ জন্ম থেকে কতগুলো সামাজিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মায়:

১।নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য
২।ধর্ম
৩।ভাষা
৪।সামাজিক সংস্কৃতি
৫।রাজনৈতিক জাতীয়তা

মানুষ সামাজিক ভাবে বেঁচে থাকার জন্য আশ্রয় খোঁজে। মানুষের বেঁচে থাকা শুধু খাদ্য অন্বেষণে সীমাবদ্ধ নয়।

উপরোক্ত পাঁচটি বৈশিষ্ট্য ত্যাগ করা মানুষের জন্য খুব সহজ নয়। কেননা এর প্রাপ্তি তার বুদ্ধি হবার আগ থেকেই হয়, তার মননে গেঁথে যায়।

পাঁচটি বিষয় নিয়ে তাৎক্ষনিক কিছু প্রশ্ন বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতেই শুধু ঋণাত্মক গুলো মুক্তমনে করা যাক
 
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক বাহিনী এবং তাদের দোসরদের অত্যাচারের কথা প্রায় সবাই জানেন। কিন্তু ঐ সময়ে এবং যুদ্ধের ঠিক পরে, অনেক জায়গায় বাঙালীদেরও পাল্টা অত্যাচার হয়েছিল এবং যুদ্ধে মাঝে মাঝে শিশু সৈনিক ব্যবহারের কথা শোনা যায় এবং শিশু দ্বারা মুক্তিযুদ্ধের কতগুলো অন্যতম সফল আক্রমণ করা হয়েছিল…… এখন স্বাধীন দেশে এটা কে আলোচনা করবে???? করবেনা, ওটা বিদেশীরা করবে অথবা খুব বেশি হলে একাডেমিক আলোচনা হবে…… কিন্তু কখনই পাবলিক নয়। এটাই হওয়া উচিৎ। অনেকে আমাকে জামাত বলে গালি দিতে পারেন এই কথা বলার পর। কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে এসব আমার গায়ে লাগেনা, কেননা কেউ কিছু বললে তেমন কিছু আসে যায়না কারণ মানুষের মুখের কথায় উত্তেজিত হওয়া সবচাইতে বোকামি। পার্শবর্তী দেশ ভারত কিংবা পাকিস্তান সাম্রাজ্য বিরোধী মানবতার কথা বললেও তারা নিজেরা আরও বেশি সাম্রাজ্যবাদীতার পরিচয় দিচ্ছে, কাশ্মীর, আসাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, সিকিম কিংবা বেলুচিস্তান এসব শুধু চেনাগুলো। আরও অনেককিছুই আছে। আসলে, সব কথার শেষ কথা, রাজনৈতিক ভাবে যারা জয়ী হয়, ইতিহাস তাদেরই গুণগান করে। এই বিংশ-একবিংশ শতাব্দীর ইতিহাস রচনা হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে। তাদের অনেক নেগেটিভ সাইটো পজেটিভ ভাবে দেখানোর চেষ্টা করবেন ইতিহাস লেখকগণ।

পশ্চিমা সাদারা, ভারতীয়দের নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে এক সময় বর্ণবাদী আচরণ করত। গান্ধীকে এক সময় ট্রেনের বগি হতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, গায়ের রং সাদা না হবার জন্য। আচ্ছা অনেক দক্ষিণ এশীয়রা নিজেরা কি কম বর্ণবাদী। বাঙ্গালীরা বাদামী কিংবা একটু গাড় বাদামী। এই কোয়েজি/সেমি ডার্ক স্কিন নিয়েও বাঙ্গালীরা, পারফেক্ট ডার্ক স্কিনের মানুষদের সুযোগ পেলেই টিটকারি মারে…… মারেনা??? ভারতে দলিত শ্রেণীর কথা বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশের অনেক মানুষই মনে করে আফ্রিকা মানে জঙ্গল!!!!!! তারা অসভ্যঅনেকের ধারনাই নাই আফ্রিকার অনেক দেশ বাংলাদেশ হতে অনেক উন্নত এবং মিশর-ইথিওপিয়া বাদেও ওখানে আরও অনেক প্রাচীন সাবসাহারান সভ্য রাষ্ট্র ছিল। চাকমারা দাবী করে তারা বাঙালীদের দ্বারা পাল্টা বিভিন্ন দিক হতে জাতিগত অত্যাচারের স্বীকার; আবার অনেক চাকমাদের দ্বারা মারমারা বিভিন্নভাবে নিগৃহীত।

আমরা আমাদের সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব করি। কিন্তু যেসব নিয়ে আসলেই গর্ব ওসব নিয়ে করা হয়না। গর্ব করা হয় উনবিংশ শতাব্দীতে কলোনিয়াল আমলে যেসব সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে। ফোক এখনো আমাদের খেটে খাওয়া গণমানুষের বিনোদন। অনেকে আবার ট্র্যাডিশনাল বাদ্যযন্ত্র বাদ দিয়ে গিটার দিয়ে ফোক গান গেয়ে খাটি বাঙ্গালী হবার চেষ্টা করেন, দোতারা নিয়েযে ব্যাভেরিয়ান-ভেগাবন্ড স্মার্টনেস ভাব তাদের আসেনা !!!!! অনেকে আবার রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং মরমী সঙ্গীতকে বিনোদনের মাধ্যম থেকে সরিয়ে ধর্মের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। একটু ফিউশনই গেল গেল রব তোলেন যেন সাংস্কৃতিক চরমপন্থা। আবার এক শ্রেণীর মানুষ বাসায় পরিবার সহ বসে চিকনি চামেলি নাচন আর ক্যাটরিনার কোমর দোলান দেখে, কিন্তু বাংলা সিনেমা অশ্লীলতা জন্য দেখেননা…… বিচিত্র হিপোক্রেসি।
 
বাংলা ভাষা নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই। অনেকে অতি আবেগে বলে ফেলেন এটা কয়েক হাজার বছরের পুরোন ভাষা। এর বিরোধিতা অনেকে হজম করতে পারেনা। বিরোধিতা করলেই তাকে ধার্মিক জাতীয়তাবাদী বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয়। কিন্তু বাস্তব কথা হচ্ছে হাজার-দের হাজার বছর আগে বাংলা ভাষার ল্যাঙ্গুয়েজেনেসিস হয়নি। যেমন ইংরেজি কিংবা হিন্দি হয়নি। তবে চীনা ম্যান্ডারিন কিংবা ল্যাটিন, সংস্কৃত পালি ব্যতিক্রম।
 
আচ্ছা জাতি হিসেবে কি আমরা ঐ পাকিস্তানি পাঞ্জাবি চিন্তা ভাবনা থেকে খুব বেশি দূরে।যুদ্ধের পর স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতা শেখ মুজিব পার্ব্যত্য চট্টগ্রামের অনেক ক্ষুদ্র জাতিসত্তাকে বাঙ্গালী হয়ে যেতে বলেছিলেন, আমার মনে হয় এই কথা জিন্নাহর সেই ৫২র বক্ত্যব্য থেকেও থেকেও নীচ চিন্তা, উর্দু তো জিন্নাহর নিজের মাতৃভাষা ছিলনা কিন্তু শেখ মুজিবের নিজের মাতৃভাষা বাংলা ছিল!!!!
বাংলাদেশ শান্তি প্রিয় মোডারেটমুসলিম এবং বাঙ্গালী সংখ্যা প্রধান দেশ। তবে দেশের ১৫ শতাংশ মানুষ মুসলিম না এবং ২ শতাংশ মানুষ বাঙ্গালী না। আমাদের দেশে রাষ্ট্র ধর্ম আছে আবার রাষ্ট্র ভাষাও আছে। যারা এই সাংবিধানিক ভাবে স্বীকৃত রাষ্ট্রীয় বিশেষণে বিশেষায়িত বিশেষ্যর বিরোধিতা করেন তারাও সব কিছুর বিরোধিতা করেননা। বেশিরভাগের রাষ্ট্র ধর্মে চুলকানি থাকলেও রাষ্ট্র ভাষা তে নেই। কোনটির করেন কোনটির করেননা।

সহজ কথায়, যারা ধর্ম পালন করেননা কিংবা ঈশ্বরে বিশ্বাসী নন তাদের নাস্তিক বলা হয়। সমাজে যেমন ধর্ম কিংবা জাতিসত্তা ভিত্তিক চরমপন্থি আছে তেমন নাস্তিক চরমপন্থিও আছে।
 
অনেক প্রগতিশীল গে-লেসবিয়ান বিয়ের অধিকারের ব্যাপারে কথা বলেন তারাই নিজেরা বহুবিবাহের ব্যাপারে উদারতার পরিচয় দেননা। আবার যারা পলিগেমির সমর্থক, তাদের মধ্য বেশিরভাগ পলিযিনি সমর্থন করে কিন্তু পলিএনড্রির ঘোর বিরোধী। পৃথিবীতে স্ট্রেট এর পাশাপাশি লেসবিয়ান-গে আছে আবার হেটারো আছে যারা কোন কিছুর ধার ধারেনা। অনেকে আবার অর্গি-গ্রুপেও মজা পায়। গ্রুপ ম্যারেজের উদাহরণও দেখা যায়, আমি কিছুদিন আগে এক ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমে এটা নিয়ে ফিচার দেখেছি। এখন এই ইন্টারনেটের যুগে আমরা সহজে জানতে পারি জুফিলিয়া-নেক্রোফিলিয়া নামেও শব্দ আছে; আচ্ছা এরা যদি দাবী করে ইন্টারস্পিসিস ম্যারেজ আইন সম্মত করার!!!!! এদের প্রায় সবাই মনে করে পেডোফিলিয়া অপরাধ কিন্তু এর ঘোর বিরোধী যদিও ফ্রেন্স সরকার আবার এক পেডোফিল রোমান পোলানেস্কি কে বিচারের হাত থেকে বাঁচাতে আন্তর্জাতিক চেষ্টার ত্রুটির বিচুতি করেনা। ফ্রেঞ্চরা আবার নিজেদের পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিল্প বোদ্ধা দাবী করে কিনা, এজন্য বোধয় পেডফিলিক কর্মকান্ডে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত এক শিল্পীকে বাঁচানোর এই প্রয়াস!!
এখন আবার পরিবেশ বাদী চরমপন্থাও চোখে পরে!!!!! আমার সবচাইতে হাসি লাগে যখন কেউ প্রাণী মাংস খায়না এই যুক্তিতে যে, এটা খাওয়া মানে প্রকৃতি বিরোধী প্রাণের হত্যা। তারা নাকি ভেজ বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র খুব সফলভাবে দেখিয়েছেন উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে। এটা সু-প্রতিষ্ঠিত। মূল ব্যাপার হওয়া উচিৎ, অপ্রয়োজনীয় নিধন করা অনুচিত, সেটা প্রাণী হোক কিংবা উদ্ভিদ হউক।

এসবের মত

ধর্মও একটা ফ্যাক্টর। পৃথিবীর কোন ধর্মই মানবতা বিরোধী কথা বলেনা। কিন্ত যুগে যুগে মানুষ ধর্মকে ব্যবহার করেছে, নিজের সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়ে স্বার্থ আদায় করার সব ধর্মেই চরমপন্থী আছে, খৃস্টান, ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, জুডাইজম সহ সব ধর্মেই। আবার এসব ধর্মের ভেতরেও অনেক ফ্যাকশন আছে, যারা একজন আরেকজনকে স্বীকৃত দিতে অনিচ্ছুক।

যাই হোক, আমার বলার উদ্দেশ্য যে যতই নিজেকে মুক্তমনা দাবী করুক। পৃথিবীতে কেউই শতভাগ মুক্তমনা নয়। সব বাদ দিয়ে শতভাগ মুক্তমনা হলে সমাজ বলে আর কিছু থাকবেনা যার ফলাফল নৈরাজ্য। যেমন গণতন্ত্রের মাঝেও কিছু নিয়মতান্ত্রিকতা থাকতে হয় তানাহলে নৈরাজ্য শুরু হয়ে যায়।
সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে হলে সহমর্মিতা সবার আগে প্রয়োজন। কি দরকার অপরের বিশ্বাসকে ভার্বালি অফেন্স করে তাকে কষ্ট দেওয়া যদি না তা কোন ক্ষতির কারণ হয়ে না দাড়ায়।
 
শেষ কথা, সকল প্রকার চরমপন্থা নিন্দনীয়। কোন কিছু আদায় করতে হলে সিস্টেমেটিক ভাবে আগানোই শ্রেয়। মানুষ জন্ম সুত্রে যা পায়, তা থেকে পরবর্তীতে বের হয়ে আসা এত সোজা নয়।

               -------------------X-------------------

 প্রবন্ধটি ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১২ সালে চতুর্মাত্রিক ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল 

Sunday, October 28, 2012

বিভিন্ন সামাজিক ব্লগে প্রকাশিত পোষ্ট "সংবাদিকা" ব্লগস্পটে প্রকাশিত হল।

 বিভিন্ন সামাজিক ব্লগে প্রকাশিত পোষ্টগুলো আজ গুগুল ব্লগারে "সংবাদিকা" ব্লগস্পটে প্রকাশিত হল। এখন হতে যে সাইটেই লেখা প্রকাশিত হউক, একই সাথে এই ব্লগেও পোষ্ট করা হবে।

নতুন কোম্পানি আইন... বাকশালি আইনের ডিজিটাল সংস্করণ

ভালো বেতনের চাকুরী ছেড়ে নিজে কিছু করার চেষ্টা করছি। আমি রিস্ক নিয়েছি। বড় রিস্ক। আমার থেকে অনেক মেধাবী চাকুরী ছাড়ছেননা; আমি জানি তারা আমার থেকে আরও ভালো করত ব্যবসা করলে। কিন্তু তারা রিস্ক কিংবা কষ্ট করতে ভয় পাচ্ছে। তাদের সাথে আমার পার্থ্যক্যঃ আমি রিস্ক নিচ্ছি এবং আমি কষ্ট করছি। নিঃসন্দেহে শান্তিকালীন সময়ে চাকুরী হতে ব্যবসা করা অনেক কঠিন। আপনার চতুর্মুখী চিন্তা করতে হবে। আক্ষরিক অর্থেই ছুটি নাই, ঘুমানো ছাড়া।

ব্যাংক, ইন্ডিভিডুয়াল ইনভেস্টর, ক্লায়েন্ট, কাস্টমার, সাপ্লাইয়ার সর্বোপরি নিজ প্রতিষ্ঠানের স্টাফ (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক), পার্টনার, এবং নিজে সেই সঙ্গে মার্কেট এবং কম্পেটিটর। সবার চিন্তা একসাথে। এই সাথে মানব, পরিবেশ এবং যন্ত্র । আসলে এত ঝামেলায় অনেকই যেতে চাননা। যারা উঁচু বেতনে কাজ করেন অথবা ঘুষ-উপরি কামান তারা চাকুরীর সাথে সাথে সাইলেন্ট ইনভেস্ট করেন অথবা শেয়ারে টাকা খাটান। কিন্তু একটা প্রতিষ্ঠান শুরু করে পরিচালনা করার সাহস কিংবা ইচ্ছা করেননা। একটা প্রতিষ্ঠান আন্টোপ্রেনিয়ার জন্য সন্তানের মতই। পরিকল্পনা –অর্থ সংস্থান– বাস্তবায়ন - বিপণন, চারটা শব্দ কিন্তু বিশাল কর্মযজ্ঞ সমস্ত কিছু ঢেলে তা করতে হয়।

এখন কারও প্রতিষ্ঠান এত ঝুঁকি নিয়ে দাড় করানোর পর যদি বাহিরের কেউ এসে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় তাহলে কেমন লাগবে। বাংলাদেশ ব্যবসা করার জন্য পৃথিবীর অন্যতম কষ্টকর যায়গা আমলাতন্ত্রের অযৌক্তিক কালক্ষেপণ এবং পদে পদে ঘুষের ব্যাপকতা আছেই। তার উপর যদি এমন সম্বাভনা হয় যে যে কারও খবরদারি করার সুযোগ আসে তাহলে কেইবা ব্যবসা করার জন্য এগিয়ে আসবে।

রাষ্ট্রের নিজস্ব আইনের মধ্য মানুষের স্বাধীন ব্যবসা করার সুযোগ থাকতে হবে। যা “লেইজে ফেয়ার” নামে পরিচিত। রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিবে, বিনিময়ে ব্যবসা থেকে তারা কর পাবে। ব্যবসাতে অনিয়ম হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার আইন থাকতে হবে। কিন্তু ব্যবসা দখল করার ক্ষমতা যদি সরকারের হাতে থাকে (সরকার ট্যাক্সের টাকা বিনিয়োগ/বেইল আউট না করেও) দেশের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে। এটা হল বাকশালি ব্যবস্থা। এমন হলে দেশে কেউ বিনিয়োগ করবেনা। কে ব্যবসা হারাতে চায়।

কোন পাবলিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান (পুজিবাজারে তালিকাভুক্ত) অথবা যেসব প্রাইভেট সাধারণ মানুষ হতে বন্ড/সিকিউরিটি/ স্টক বেঁচে পুঁজি সংগ্রহ করে সেখানে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ দরকার কারণ বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্থ বিনিয়োগ হয় যার নিয়ন্ত্রণ ঐ প্রতিষ্ঠানের কতিপয় পরিচালনা ব্যক্তির হাতে থাকে যাদের উক্ত বিনিয়োগকৃত অর্থের উপর নিজেদের দায়ও কম থাকে। তাই অবশ্যই এই দুই প্রকার প্রতিষ্ঠান যেন স্বচ্ছ ভাবে চলে তার ব্যবস্থা করতে হবে। এদের আইনি কাঠামো ভিন্ন হতে হবে এবং প্রয়োজনে সরকারি পরিদর্শক নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। সরকার জনগণের ট্যাক্সের টাকা বিনিয়োগ কিংবা তা দিয়ে বেইল আউট না কর পর্যন্ত প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার আইন থাকা উচিৎ নয়।

কিন্তু একটি সোল প্রপ্রাইয়েটরশিপ কিংবা যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে যেখানে হাজার হাজার মানুষের বিনিয়োগ থাকেনা তাতে যদি প্রশাসক বসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা থাকে তাহলে কে ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করতে যাবে; বিশেষ ভাবে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা অন্য দেশে বিনিয়োগ করবে যেখানে আইন আরও ব্যবসা বান্ধব। এসব প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি হলে প্রচলিত আইনেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

দেশে প্রচলিত আইন আছে তা দিয়ে খুব সহজে ডেস্টিনির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারত এবং অনেক আগেই নিতে পারত। এত কাল ক্ষেপণের দরকার নেই। তাছাড়া পুজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জোচ্চুরি সহজে ধরা যেত। পুজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া যায় কেননা তা পাবলিক প্রতিষ্ঠান; তাও ততক্ষণ পর্যন্ত দেওয়া উচিৎ নয় যতক্ষণ সরকার নিজে ঐ প্রতিষ্ঠানে জনগণের ট্যাক্সের টাকা বিনিয়োগ করে কিংবা বেইল আউট করে।

এখানে স্পষ্ট ভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে সরকার সবধরনের কোম্পানির জন্য এই আইন করতে যাচ্ছে যা দ্বারা দুটি দিক উম্মোচন হয়ঃ

১। সরকারের আইন প্রণেতাদের আন্তর্জাতিক ব্যবসা এবং ব্যবসা এর আইনগত এবং প্রকার গত (বিজনেস এন্টিটি এবং বিজনেস মডেল ) কোন ধারনাই নেই। সোজা কথায় তাদের ব্যবহারিক জ্ঞানের অভাব “বকলম”।

২. সরকার সুযোগ বুঝে এক বাকশালীয় কালো আইন করতে যাচ্ছে যেন আইনের দোহায় দিয়ে যেকোনো সময় যেকোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেকোনো কারণে কিংবা ভুয়া কারণে রাজনৈতিক কিংবা সরকারের "নাট-বল্টুদের" ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে এই আইন ব্যবহার করতে পারে।

একথা ভাবতে ফিনান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ইকোনমিক এনালিস্ট হওয়া লাগেনা প্রাইভেট কোম্পানি ডেস্টিনি কিংবা হলমার্ক কিংবা স্টক কোম্পানি সামিট কিংবা বেক্সিমকোর হাজার হাজার কোটি টাকার ফটকামি-জালিয়াতিতে রাজনৈতিক দল এবং রাজনীতিবিদ কোন লাভের ভাগ পায়নি।

যেকোনো কোম্পানি আইন করার সময় সরকারকে অবশ্যই নিম্নোক্ত তালিকা মাথায় রাখতে হবে। পাইকারি ভাবে সব গুলোকে একসাথে ফেললে তা দেশের অর্থনীতিতে কোন মঙ্গল বয়ে আনবেনা, আইনে তো নয়ই।

সত্তা ভিত্তিক
#জয়েন্ট স্টক কোম্পানি / পাবলিক কোম্পানি
#পার্টনারশিপ (জেনারেল পার্টনারশিপ, লিমিটেড পার্টনারশিপ, লিমিটেড লাইয়েবিলিটি ইত্যাদি)
#সোল প্রপ্রাইয়েটরশিপ
#ফ্রঞ্চাইজি
#মিউচুয়াল

বিশেষায়িত কাজ
#প্রফেসনাল কন্সালটেন্সি ফার্ম এবং হাসপাতাল
#ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান
#বিপজ্জনক পদার্থ / যন্ত্র প্রস্তুতকারক

অলাভজনক / সামাজিক প্রতিষ্ঠান
#নন প্রফিট কো-অপেরাটিভ
#সোস্যাল বিজনেস
#নন প্রফিট

এছাড়া,
প্রয়োজন অনুসারে আরও ভাগ করে আইন করা উচিৎ।
তাছাড়া,
"এম-এল-এম কোম্পানি" আইন করে বন্ধ করার সময় বোধয় এখন এসেছে

নতুন কোম্পানি আইন সংবাদ - ১

নতুন কোম্পানি আইন সংবাদ - ২


----------------------------------------XXXXX------------------------------------------------

 প্রবন্ধটি ২৩ শে অক্টোবর, ২০১২ সালে সমহোয়্যার ইন ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।

সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে নাফিসের গ্রেপ্তার এবং কতিপয় বাংলাদেশীদের দৃষ্টিকটু কাঙ্গালিপনা

*এখন বাংলাদেশের কি হপে
*বাংলাদেশ তো ডুবল
*বাংলাদেশিরা ঝামেলায় পড়বে
*পরবর্তী আফগানিস্তান
*বাংলাদেশের রেপুটেশন খারাপ হবে
*প্রবাসী বাংলাদেশীদের সমস্যা হপে
*আমেরিকায় আর স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া যাবেনা

এমন কথায় এখন আন্তর্জালে ব্লগ কিংবা সামাজিক যোগাযোগ সাইট সরব। বিভিন্ন “শিক্ষিত” মানুষরা তাদের ভবিষ্যৎ অসুবিধার জন্য নাফিসকে দায়ী করছে। সেই সঙ্গে তারা নিজেদের ব্যাপক কাঙ্গালিপনা প্রকাশ করে দিচ্ছে। তাদের নাকি “মুসলিম মডারেট” পরিচয়ের ক্ষতি হবে।

মাঝে মাঝে মনে হয় কেন আমাদের প্রধান দুই দল পরস্পরের বিরুদ্ধে বিদেশীদের বিচার দেয়। আমাদের দেশের টিভির সবচেয়ে বড় তারকা বোধয় পশ্চিমা কূটনৈতিকরা, যেভাবে তারা এয়ার টাইম পান। পরে ভাবি, রাজনীতিবিদ কিংবা টিভী চ্যানেলের দোষ দিয়ে লাভ কি। প্রধান দুই রাজনীতিবিদদের তো দেেশর মানুষই নির্বাচন করে আর টিভিতে তদের উপস্থিতি মানুষ গুরুত্ব সহকারে
দেখে বলেই তাদের চ্যানেল কর্তৃপক্ষ দেখায়।

ভাবের মূর্তি

অপ্রিয় হলেও সত্য, বেশিরভাগ পশ্চিমা মনে করে আমাদের দেশের বেশিরভাগ বছরের বেশীরভাগ সময় পানির নিচে থাকে। চরম দরিদ্র।

বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত পাচটি ব্র্যান্ডঃ

ভৌগলিক-
১।গ্রামীণ ব্যাংক এবং ডক্টর ইউনুস (ইউরোপ- আমেরিকা)
২।বাংলাদেশ সামরিক শান্তি বাহিনী (আফ্রিকা)
৩।বাংলাদেশের শ্রমিক (মধ্য প্রাচ্য)

কার্যকরী-
১।ক্রিকেট দল (আন্তর্জাতিক খেলার জগত)
২।তৈরি পোশাক শিল্প ( ব্যবসা জগত)

আমাদের সরকার উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানের রাজনীতিকরন করে বারোটা বাজাচ্ছে। তারপরও তারা ভোট পাচ্ছে।

আর সবচাইতে বড় কথা এসব কাঙ্গাল বাঙ্গালীরা সবাইকে নিজেদের মত মনে করে। যেমন ঢাকায় কিছু আফ্রিকান ফুটবলার কিংবা এক বছর আফ্রিকায় ডিউটি করে আসার পর গোটা আফ্রিকান জাতিকেই বিচার করে। অথবা কয়েকজনের জন্য পুরা কম্যুনিটিকে দোষারোপ করা। অনেকে মনে করে গোটা পশ্চিমা সমাজ রসাতলে গেছে; মনে করে হলিউডের মতই গোটা পশ্চিম। অনেকে ভাবে আরবদের ব্যাপক সমস্যা। এভাবে পাইকারি চিন্তা হল চিন্তার অগভীরতা এবং সল্পতা।


সৌদি, মিশরীয়, পাকিস্তানি, ভারতীয় কিংবা আফগানিরা পশ্চিমে বহাল তবিয়তে আছে এবং ব্যবসা বাণিজ্য করছে সুতরাং এই ঘটনা কারণে ভাবের মূর্তি ভেঙ্গে গেল, ভে্য ঙ্গে গেল রব তোলা হাস্যকর। আর আমাদের ভাবমুর্তি অনেক ভাবেই অনেক দিক দিয়ে ইতিমধ্যই নষ্ট হয়েছে। তাতে রাজাকার মৌলবাদী ইসলামি জঙ্গির সাথে সাথে সেক্যুলার "স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি" ও অনেক কাজ করেছে। বিচ্ছিন্ন ঘটনা কে পাইকারি ধরা বোকামি।

সর্বশেষ

যদি নাফিস আসলেই দোষী হয় তাহলে তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। ইতিমধ্যো বের হয়েছে নাফিসের সহযোগী হিসেবে আমেরিকান এক নাগরিক যে কিনা ককেশীয় বংশোদ্ভূত। সবচেয়ে ভালো লাগত একজন বাংলাদেশীর ট্রায়াল যদি বাংলাদেশে হত। এটাও দেখতে হবে সে কি আসলেই সন্ত্রাসবাদের সাথে দীর্ঘ পরিকল্পনায় সংযুক্ত নাকি পরিস্থিতি এবং সুযোগের জন্য এমন করেছে।

পুনশ্চ: অনেকেই মনে মনে অনেক বিপ্লবী কিছু করেতে চায় আবার ভুলেও যায়। এখন ঐ চাওয়ার সময় কেউ যদি উস্কানি এবং বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেয় তাহলে কে বেশি দোষী।

এই খানে আইনের কয়েকটি ধারা বেশ আলোচনা হচ্ছে আগ্রহীরা দেখতে পারেনঃ

Sting operation
Entrapment
Frameup
Thoughtcrime
Patriot Act

সূত্রঃ নিউ ইয়র্ক টাইমস

Man Is Charged With Plotting to Bomb Federal Reserve Bank in Manhattan

F.B.I. Arrests 2nd Suspect In Bomb Plot Against Bank

---------------------------------------XXXXX------------------------------------------------

 প্রবন্ধটি ১৯ শে অক্টোবর, ২০১২ সালে  সালে সমহোয়্যার ইন ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।

বিবাহ চুক্তি- চুক্তির অর্থনৈতিক দিক dowry, maintenance, alimony..




আমার এক ব্যবসায়িক অ্যাসোসিয়েট, আমার থেকে বয়সে বেশ কয়েক বছরের বড়, প্রায় ৩৪ বছর। একেবারে সেলফ মেইড, হাইলি প্রফেশনাল বিজনেস ম্যান (তবে পারিবারিক ভাবেও ওয়েল কানেক্টেড যা তিনি ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন) আমার সাথে ছাড়াও ওনার অন্যান্য দিকেও অনেক ব্যবসা আছে। নতুন বিয়ে করেছেন কয়েকমাস আগে, ওই পাত্রী আমেরিকার সিটিজেন যদিও পাত্রও সিটিজেন। বিয়ের রেজিস্ট্রেশন আমেরিকা এবং বাংলাদেশ দুই যায়গায়ই হয়েছে। উনার স্ত্রী উচ্চশিক্ষিত, ভালো চাকুরী করেন ব্যাংকে।

কিছুদিন আগে উনি কতগুলো কথা বলেছেন লাঞ্চ আড্ডার সময়, যা সত্যিই চিন্তার খোরাক যোগাচ্ছে। তাই শেয়ার করলাম-

ভাবীর সাথে যদিও উনার প্রায় ৫ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল (আমেরিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রায় ২ বছর এক সঙ্গেও ছিলেন মানে লিভ টুগেদার )। গত বছর উনি বিয়ে করেছিলেন এবং বিয়ের আগে নাকি “বিয়ে-পূর্ব সমঝোতা” (prenuptial agreement) করেছেন। যদি ডিভোর্স হয় তাহলে সম্পত্তির কেমন ভাগ হবে তা নাকি ওই চুক্তিতে থাকে। ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী (উনাদের দ্বিতীয় রেজিস্ট্রেশন ওখানে হয়েছে) ডিভোর্সের পর সম্পত্তি যার যাই থাকুক ৫০/৫০ হারে দুপক্ষই পায়। তাই আগে ভাগেই তারা ঠিক করে রেখেছেন worst case scenario তে সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা কেমন হবে। তার কথা হল, তিনি যা ইনকাম করবেন তা থেকে তিনি সাবেক স্ত্রীকে (যদি বিচ্ছেদ হয়) পরবর্তী ভরন পোষণ দিতে রাজী; কিন্তু কোনমতেই তিনি উত্তারিধাকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি সাবেক স্পাউসকে দিতে রাজী নন। আমার ধারণা অনুযায়ী, উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি যত সম্পত্তি এবং ব্যাংক ব্যালেন্স পাবেন টাকার অঙ্কে নিশ্চিত ৯ ডিজিটের সংখ্যা পার হবে, যথেষ্ট ধনী পরিবারের সন্তান উনি।

আসলে ওই আইন শুধু ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিচ্ছেদের সময় যদি স্ত্রীর সম্পত্তি বেশি থাকে, তাহলে সেই মহিলা তার সাবেক স্বামীকে তার সম্পত্তির সমান অংশ দিতে বাধ্য থাকবে। এমনকি সাবেক স্বামী যদি আরেকটা বিয়ে করে তারপরও দিতে হবে; যেমন বেশি অর্থশালী স্বামী তার সাবেক স্ত্রীকে দিতে বাধ্য। সমসাময়িককালে পশ্চিমে নাকি এটা এখন অহর অহর হচ্ছে, স্ত্রী তার সাবেক স্বামীকে ভরন পোষণ দিতে বাধ্য হচ্ছেন আইনের কারণে; কর্মজীবনে স্বামী থেকে সফল অনেক মহিলার এটা পছন্দ নয়। নারীরা যে অনেক ক্ষেত্রে আক্ষরিক অর্থেই “কর্মজীবনে সফলতার” দিক দিয়ে পুরুষ এমনকি নিজ স্বামীকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে এটা একটা প্রমাণ। তবে অনেক পুরুষের মতই অনেক নারীই এতে বেজায় নাখোশ, কার ভালো লাগে সাবেক স্বামীকে নিজের কষ্টার্জিত টাকা দিতে। যদিও এটা সমঅধিকারের একটা ভিত্তি। আবার অনেক পুরুষও এটা সেচ্ছায় নেয়না, আত্মমর্জাদার জন্য যেমন আনেক নারী তার সাবেক স্বামী হতে কোন সম্পত্তি নেননা, যদিও এর সংখ্যা অনেক কম।

আমাদের দেশে সিভিল আইন কেমন আমার জানা নাই। তবে যতটুক জানি, ইসলামিক আইন অনুযায়ী, স্ত্রীর কোন সম্পত্তিতেই স্বামীর কোনই হক নেই। বিয়ের সময় দেনমোহর তো আছেই, বিয়ের পর স্বামী সংসারের খরচ চালাতে বাধ্য এমনকি বিয়ে বিচ্ছেদ হলে স্বামী তার স্ত্রীকে খোরপোশ দিতে বাধ্য, সাবেক স্ত্রী যত ধনী হোক না কেন। কমন সিভিল বিয়েতে এক্ষেত্রে দুজনেরই দায়িত্ব সমান সমান।

এখন মনে হচ্ছে বিয়ে একটা অর্থনৈতিক ভেঞ্চার, দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ। যে যতই বুদ্ধিবৃত্তিক বড় বড় কথা বলুক না কেন, বিয়ে শুধুই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি। এটা শুধুই ভবিষ্যৎ বংশধর বৃদ্ধি করে নিজ জিন প্রসার করার জন্য সেই সঙ্গে বিপদে আপদে কারও loyal সান্নিধ্য প্রাপ্তি, সহায়তা লাভ এবং সামাজিক স্বীকৃত জৈবিক সংগ পাবার জন্য জন্য দুই বিপরীত লিঙ্গের মানুষের মধ্য একটা সামাজিক চুক্তি, যার সাক্ষী হল সমাজের অন্যান্য মানব সদস্য। যদিও পশ্চিমে অনেক দেশে বিয়ের জন্য বিপরীত লিঙ্গ বাধ্যতামূলক নয় B:-) B:-) । অন্যান্য যেকোনো চুক্তির মতই এই চুক্তি যেকোনো সময় ভেঙ্গে যেতে পারে, কেননা এটা অলঙ্ঘনীয় নয়। ভাঙ্গার পর কি হবে তা মূলত চুক্তির শর্ত এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী ঠিক হয়।

সুতরাং, অন্যান্য চুক্তির করার মতই এই চুক্তি করার সময়ই চুক্তি ভাংলে কি হবে বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন। এক্ষত্রে অপর পক্ষের কতগুলো বিষয় মাথায় রাখা উচিত যেমন- স্বভাব-চরিত্র, আচার ব্যবহার, নমনীয়তা, সহনশীলতা, আত্মমর্যাদা বোধ, শারীরিক অবস্থা –সুস্থতা, শিক্ষা, ব্যক্তিগত অতীত ইতিহাস, ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড, সামাজিক মর্যাদা, পারিবারিক অবস্থা, এবং সর্বশেষে শারীরিক সৌন্দর্য। শারীরিক সৌন্দর্য অবশ্যই সবার শেষে, কেননা যে যত যাই বলুক, ৩০ এর পর মেয়েদের আসলে ন্যাচারাল সৌন্দর্য কমতে থাকে, কমবেই, বিশ্ব সুন্দর ঐস্বরিয়া রয়েরই নাই ( যতটুকু জানি প্রায় ৪ বারের উপর তাইনে কসমেটিকস সার্জারি করিয়েছেন, এখন যা দেখা যায় তা কৃত্রিম সৌন্দর্য :P :P ) তেমন ছেলেদের বেলতেও একই কথা, হ্যান্ডসামনেস কে কিংবা টাকা-পয়সাকে সবার আগে প্রাধান্য দেওয়া বোকামি =p~ =p~ । সবার প্রথমে নিশ্চিত ভাবে আচার-আচরণ-স্বভাব-চরিত্র।

সমাজে অনেক নারীপুরুষই টাকার লোভে, ব্যবসায়ীক সুবিধা কিংবা চাকুরীর বিনিময়ে বিয়ে করে। তাদের কথা আলাদা। তারা তাদের নূন্যতম আত্মমর্যাদা সেচ্ছায় বাদ দিয়েছে। তবে আমি দেখেছি বেশিরভাগ নারী পুরুষই বিয়ের সময় অপর পক্ষের সম্পত্তির কথা চিন্তা করেনা। সবাই প্রথমে দেখে ওই স্বভাব-চরিত্র।

হিসেব করে দেখলাম, আমি যদি এখনই সামাজিক ভাবে বিয়ে করি, সব মিলিয়ে নূন্যতম প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা খরচ হবে; ইসলামিক নিয়মে দেনমোহর নূন্যতম যদি ১০ লক্ষ টাকাও ধরি। সুতরাং, এই পরিমাণ অর্থ এই সময় বিয়ে চুক্তিতে ব্যয় করার চেয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করা লাভ জনক। সবচাইতে বড় কথা, এখন বিয়ে করতে হলে আমাকে পরিবার হতে টাকা নিতে হবে। উল্লেখ্য, আমার ওই ব্যবসায়ীক পার্টনারের প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে, যদিও উনার দুই যায়গায় আনুষ্ঠানিকতা করতে হয়েছে। আমি চাই নিজের বিয়ের খরচ নিজে বহন করতে। ভবিষ্যতে ইনশাল্লাহ অবশ্যই পারব।

আসলে সরকারী / মাল্টিন্যাসনাল চাকুরী ব্যাতীত ৩০ এর আগে নিজ খরচে বিয়ে এবং বিয়ে পরবর্তী বসবাস করাটা একটু কষ্টের হয়ে যায়; আর যারা নতুন ব্যবসা বানিজ্য করেছেন তাদের জন্য ব্যাপারটা আসলেই রিস্কি; নিজের জন্য এবং যাকে জীবন সঙ্গী করা হবে তার জন্য আরও বেশি। কেননা ব্যবসাতে নিজের ভাগ্য নিয়ে প্রতিনিয়ত খেলতে হয়, নিশ্চিত বলে কিছু নেই; সব chaotic। তবে এর ফল চাকুরী হতে অনেক মধুর। এখানে আলোচনায় আমি ঘুষখোর চাকুরীজীবী এবং অবৈধ ব্যবসার ব্যবসায়ীদের কথা বলিনি, তাদের কথা আলাদা।

আসলে কোন কাজের নিয়তি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ন। ভালো নিয়ত নিয়ে কোন কাজ করলে তার ফলাফল আল্লাহর রহমতে সবসময়ই ভালো হয়।

----------------------------------------XXXXX------------------------------------------------

 প্রবন্ধটি ৩০ শে আগস্ট, ২০১২ সালে সমহোয়্যার ইন ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল।

সং!ব্যাঃ!ধিক! শ্যামল-নাইম জুটির খিস্তি খেউড়




 ছবিঃ ফিউশন ফাইভ


ডঃ!! মাহপুজের পৃষ্ঠপোষকতায়, দেশনেত্রীর!! মূল ভাবনায়.... গতকালের ATN Bangla news hour extra তে পরজীবী সং-ব্যাঃ-ধিক এবং পত্রিকার ছুম-পাদক শ্যামল দত্ত এবং নাইমুর রহমান যেভাবে ডঃ ইউনুসকে নিয়ে নির্লজ্জ খিস্তি খেউড় করলেন তা আসলেই নির্লজ্জতাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে.....

শ্যামল-নাইমের কিছু শব্দচয়নঃ গোঁয়ার, কত নোবেল প্রাপ্ত ব্যাক্তি জেল খাটছে, ধৃষ্টতা ইত্যাদি..........

পরজীবী সং বা দিক শ্যামল-নাইমকে


দেখলাম শ্যামল-নাইমের গোমর অনেক আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছে, ব্লগে নতুনদের জন্য শেয়ার করলামঃ

যেভাবে নগ্ন হলেন দৈনিক আমাদের সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান - ১

নাঈমুলের ছিঁচকে সাংবাদিকতা : ইউনূসকে নিয়ে ইতরামি, এরশাদের পদলেহন, ইজরায়েল প্রেম আর ধারাবাহিক মতলববাজি